তৃণমূল দলটা দিখণ্ডিত হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা! মমতা কি আদো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে??
তৃণমূলে আর মমতা বা অভিষেককে মানছে না, নতুন নেত্রী চাইছে।
তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন ঋতব্রত-সন্দীপনদের পক্ষে থাকলেই খান খান হয়ে যাবে দলটি। তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়করা ঋতব্রতর সঙ্গে যাবেন, না আদি তৃণমূলেই থাকবেন, তা আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।
কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) তাঁর রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার ধর্নায় বসেছেন। কখনও বিরোধী নেত্রী হিসেবে, কখনও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কেন্দ্রের বিরোধিতায় পথে নেমেছেন।
দল দখলের প্রায় নাগালে ঋতব্রতরা! আরও নিঃসঙ্গ মমতা, ধর্নামঞ্চে তাঁর পাশে মাত্র ৮ জন বিধায়ক!!
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির ২৮ দিন পর প্রথম বার রাজপথে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিলেন তিনি। সংবিধান হাতে নিয়ে বিজেপি-কে হারানোর পণ করলেন ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে পেলেন দলের মাত্র ৮ জন বিধায়ক এবং ৬ জন সাংসদকে! দলের বহিষ্কৃত বিধায়ক, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার ‘নেতৃত্বে’ তৃণমূল পরিষদীয় দলে ভাঙনের জল্পনার মধ্যেই মমতার কর্মসূচিতে জোড়াফুলের জনপ্রতিনিধিদের এই ‘গণ অনুপস্থিতি’তে বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
শুধু পরিষদীয় দল নয়, শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের সংসদীয় দল অটুট থাকবে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বহিষ্কৃত ঋতব্রত মঙ্গলবার ঘোষণা করে দিয়েছেন, বুধবার হাওড়া গ্রামীণ জেলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে সেখানকার তৃণমূল বিধায়কেরা হাজির থাকবেন!
গত শনিবার সোনারপুরে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেই ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে ধর্নার কর্মসূচির ঘোষণা করেছিলেন মমতা। কিন্তু কলকাতা পুলিশের তরফে অনুমতি মেলেনি। পরিবর্তে লালবাজারের তরফে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ‘মঞ্চ না বেঁধে দু’ঘণ্টার জন্য ধর্না’র বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তৃণমূলকে। পুলিশের সঙ্গে মৌখিক কথাবার্তার পর বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ ঘোষণা করেছিলেন, ওয়াই চ্যানেলে মঙ্গলবার দুপুর ২টো থেকে ৪টে পর্যন্ত তৃণমূলের কর্মসূচি হবে। সেই মতোই পালিত হয় কর্মসূচি।