Flash News
  1. এবার কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে ?
Thursday, March 5, 2026

মোদির ইজরায়েলে সফরের পরেই ইরানে হামলা কেন ? তীব্র বিতর্ক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে

banner

journalist Name : Tamojoy Shrimany

#Pravati Sangbad Digital Desk:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইজরায়েল সফরের পরপরই ইরানে হামলা চালানো নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরও এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার। তাঁর দাবি, মোদির সফর এবং ইরানে সামরিক অভিযানের মধ্যে কোনও পূর্বনির্ধারিত সম্পর্ক ছিল না।

মোদির এবারের ইসরায়েল সফর শুরু থেকেই সমালোচিত। তাঁকে শুনতে হচ্ছে, ইরানে হামলার তোড়জোর যখন জোর কদমে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে রেখেছেন, ইসরায়েলে সরকার ও বিরোধী পক্ষের দ্বন্দ্ব যখন তীব্র, নির্বাচনের মুখে নেতানিয়াহু সরকার যখন টলমলে, মোদি সে দেশের পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে গেলে বিরোধীরা যখন তা বর্জন করার কথা আগাম হুমকি দিলেন (এবং সেটা তাঁরা করেছেনও), তখন কেন মোদি ইসরায়েল গেলেন?      এবার কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে

এ কথাও শুনতে হচ্ছে, সফর শেষ হওয়ার ৪৮ চল্লিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতে ইরানে হামলা করা হবে, সেই তথ্য গোপন রেখেই কি তাহলে মোদির সফর ইসরায়েল চূড়ান্ত করেছিল? প্রশ্নগুলোর একটিরও উত্তর না থাকায় স্পষ্ট, ইরান আক্রমণ, খামেনিসহ প্রথম সারির নেতাদের মৃত্যু ভারত সরকারকে প্রবল চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

ইজরায়েলর রাষ্ট্রদূতের কথায়, মোদির সফরের সময় মূলত আঞ্চলিক উন্নয়ন, কৌশলগত সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েই আলোচনা হয়েছিল। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে তখন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই দাবি তাঁর।

তিনি আরও জানান, মোদির সফরের প্রায় দু’দিন পর ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় ইজরায়েলের মন্ত্রিসভা।

তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের একাংশ এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, কোনও দেশের সামরিক অভিযান সাধারণত দীর্ঘ পরিকল্পনা ও কৌশলগত প্রস্তুতির ফল। আকস্মিকভাবে এমন বড় পদক্ষেপ নেওয়া প্রায় অসম্ভব। ফলে অনেকেই মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতি আগে থেকেই চলছিল।    ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ‘ব্যক্তিগত বন্ধু’ বললেন নেতানিয়াহু

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৭ সালে প্রথমবার ইসরায়েল সফর করেন, সেটি ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর। এবার যখন তিনি সফর করেছেন তখন মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপ বৃদ্ধি পেলেও ভূরাজনৈতিক কৌশল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক কারণে মোদি সরকার সাবধানে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে চাইছে। একদিকে ইরান ও আরব দুনিয়া, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, এই সন্ধিক্ষণে কোনো একটি পক্ষকে বেছে নেওয়া ভারতের পক্ষে সম্ভবপর নয়।           রাষ্ট্রপতিকে সরানোর গভীর ষড়যন্ত্র করেছিলেন ইউনুস

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্রের কথায়, ‘এ এক ঝুঁকিপূর্ণ ভারসাম্যের খেলা। সাবধানে এগোনো ছাড়া উপায় নেই।’ খামেনির মৃত্যুর পর ভারতের নানা রাজ্যে শোকমিছিল ও বিক্ষোভ হয়েছে। বামশাসিত কেরলমে (পুরোনো নাম কেরালা) শাসক দলের পক্ষ থেকে শোক মিছিল বের করা হয়েছে। কর্নাটক, তেলেঙ্গানায়ও শোকমিছিল বেরিয়েছে। কাশ্মীর উপত্যকায় শিয়া ধর্মাবলম্বীরা শোক প্রকাশ করতে রাস্তায় নেমে এসেছেন। গোটা উপত্যকায় দুই দিনের বন্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে। শান্তি রক্ষায় ছিন্ন করা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

মধ্যপ্রদেশের ভোপাল, উত্তর প্রদেশের লখনৌ, পাঞ্জাবের লুধিয়ানাতেও শোক সমাবেশে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি রাজ্য সরকারকে বলা হয়েছে, শোক জ্ঞাপন সমাবেশ ও মিছিলকে কেন্দ্র করে যাতে হিংসা না ছড়ায়, সে দিকে কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে।

Tags:

#Source: online/Digital/Social Media News # Representative Image

যুদ্ধ অর্থনীতি আন্তর্জাতিক দেশ
Related News