অর্ধেন্দু জানান, কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিকও তাঁকে ফোন করেছেন। সব রকম ভাবে তাঁর মেয়েকে খোঁজার চেষ্টা চলছে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বীরভূম জেলা পুলিশের একটা বিশেষ টিম তৈরি করা হয়েছে। আমরা মেয়েটিকে খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। সিআইডি এবং কলকাতা পুলিশের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির থেকেও সহযোগিতা নিচ্ছি। আমরা ১০০ শতাংশ চেষ্টা করছি, নিখোঁজ মেয়েটিকে খুঁজে বার করে তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে।’
পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছিল, অমৃতা সিউড়ি থেকে একটি বাসে উঠেছেন। কিন্তু তিনি কোথায় নেমেছেন, তা এখনও স্পষ্ট ভাবে জানা যায়নি। তরুণী যে বাসে উঠেছিলেন, সেই বাসের চালক এবং কন্ডাক্টরের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। তাঁরা জানিয়েছেন, সেই দিন ওই বাসযাত্রায় যে ক’জন মহিলা ছিলেন, তাঁরা সকলেই মল্লারপুরে নেমে গিয়েছিলেন। তার পর আর বাসে কোনও মহিলা ছিল না। সেই কারণে মল্লারপুর আর তার আশপাশের এলাকা তো বটেই, গোটা বীরভূমেই অমৃতার নিখোঁজ-পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। তারাপীঠেও খোঁজখবর করা হচ্ছে।
পরিবার জানিয়েছিল, নিখোঁজ হওয়ার দিন ঘর থেকে বেরোনোর সময়ে নিজের কিছু নথি নিয়ে বেরিয়েছিলেন অমৃতা। সিউড়ি থানার তদন্তকারীদের সূত্র জানিয়েছে, সেই সব নথি দিয়ে তরুণী নতুন কোনও সিম কিনেছেন কি না, তা দেখা হয়েছিল। কিন্তু দেখা গিয়েছে, তরুণীর আধার নম্বরে নতুন কোনও সিম নথিভুক্ত হয়নি। এর মধ্যে ব্যাঙ্ক থেকেও কোনও টাকা তোলেননি অমৃতা। পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু বীরভূম নয়, পড়শি জেলা মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়ার কিছু থানাতেও অমৃতার ছবি পাঠিয়ে খোঁজ করতে বলা হয়েছে। থানার এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, ‘নিজের মেয়ে হারিয়ে গেলে আমরা যে ভাবে খুঁজি, অমৃতা সিংকেও আমরা একই ভাবেই খোঁজাখুঁজি করছি। চেষ্টায় কোনও ত্রুটি রাখছি না। তরুণীকে উদ্ধার করে ওঁকে ওঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেবো।’