#Pravati Sangbad Digital Desk:
কলা যেমন পুষ্টিকর, তেমনই সুস্বাদু। তাই অনেকেই স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ব্রেকফাস্টে নিত্যদিনই কলা খেয়ে থাকেন। তবে শুধু ব্রেকফাস্টে পাকা কলাই নয় অনেকে আবার ভাতের সাথে কাঁচকলার কোফতা থেকে শুরু করে পাকা কলার মিষ্টি বড়ার মতো নানান সুস্বাদু পদও রেধে ফেলেন। তবে কলার রকমফেরে কাঁচা থেকে পাকা কিংবা কাঁঠালি থেকে সিঙ্গাপুরির মধ্যেও বদলে যায় তার গুণাগুণ। তাই নিজেদের শরীরের প্রয়োজন বুঝে খেতে হবে কলা। কারণ সব ধরণের কলা যে সবার জন্য উপকারী তা নয়। কারণ কিছু ক্ষেত্রে কলা যেমন অত্যন্ত উপকারী, তেমনই কিছু ক্ষেত্রে কলা এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। জেনে নিন বিভিন্ন ধরণের কলার উপকারিতা।
চাপা কলার উপকারিতা-
চাপা কলায় থাকা প্রয়োজনীয় উপাদান নার্ভকে সতেজ রাখে ও মানসিক কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে
ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে, শরীরের হাড়ের বৃদ্ধি করে, মাথাব্যথা ও বাতের ব্যথার প্রাকৃতিক নিরাময় হিসেবে কাজ করে, রক্তস্বল্পতা দূর করে ও স্ট্রোক প্রতিরোধ করে ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে।
কাঁচকলা বা আনাজিকলার উপকারিতা-
নিয়মিত কাঁচকলা খেলে এটি আলসার, ডায়রিয়া, বদহজম এমনকি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পথ্য হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও কাঁচকলায় থাকা “শর্ট চেইন ফ্যাটি এসিড” শরীরে পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে, পেটের খারাপ ব্যক্টেরিয়া দূর করে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
সিঙ্গাপুরী বক কাবুলী কলার উপকারিতা-
সিঙ্গাপুরী কলায় প্রচুর আয়রন, পটাশিয়াম আছে যা রক্তশূন্যতা দূর করে, মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ করে, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে ও ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করে, শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন সরবরাহ করে শরীরের পুষ্টির ঘাটতি দূর করে।
এঁটে বা আটিয়া বা বিচিকলার উপকারিতা-
এই ধরণের কলা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ও শরীরকে ঠান্ডা রাখে, কৃমিজনিত সমস্যা দূর করে,
আলসার,আমাশয় ও ডায়াবেটিসের পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও কুষ্ঠ ও হিস্টেরিয়া রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে,
এই কলাকে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার পথ্য হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।
সাগর কলার উপকারিতা-
বিভিন্ন প্রকার কলার মধ্যে সাগর কলার উপকারিতা অন্যতম। এটি বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে চাষ হয় এবং সর্বত্র পাওয়া যায়। সাগর কলা প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি ফল। এর ছাল থেকে শুরু করে আশ সবকিছুই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সাগর কলার প্রধান উপকারিতা গুলো হলো এটি রক্তচাপের সমস্যা দূর করে, হজমশক্তি বৃদ্ধি করে হজমের সমস্যা দূর করে, পেশীর সমস্যা দূর করে, মজবুত পেশী গঠনে সাহায্য করে, গর্ভবতী মহিলাদের শারিরীক ও মানসিক চাপ দূর করে, দেহের পুষ্টি উপাদান বজায় রাখতে কাজ করে, গ্যাস্ট্রিক বা আলসার রোগীদের জন্য সাগর কলা প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড হিসেবে কাজ করে।